অরাজ
আর্টওয়ার্ক: লকডাউন ইন্ডিয়া শিল্পী: অনুপম পাল সূত্র: আর্টজোলো
প্রচ্ছদ » অরুন্ধতী রায়।। ভারত, নরেন্দ্র মোদী এবং করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে

অরুন্ধতী রায়।। ভারত, নরেন্দ্র মোদী এবং করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে

  • তাসবির কিঞ্জল

ভূমিকা
ভারতের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এবং রাজনীতি নিয়ে অরন্ধতী রায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন ইন্টারসেপ্ট এর সাংবাদিক মেহেদী হাসান। সাক্ষাতকারে ভারতীয় রাষ্ট্র এবং সমাজের বৈষম্য করোনায় উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতীয় সমাজে শ্রেণী শোষণ, ইসলামোফোবিয়া ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তৃত আলাপ করেছেন অরুন্ধতী।   উগ্র-হিন্দুত্ববাদী শাসনে ‘ধাবমান গণহত্যা’র বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। অরাজের জন্য সাক্ষাতকারটি অনুবাদ করেছেন বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী তাসবির কিঞ্জল।

অরুন্ধতী রায়

মেহেদী হাসান: কেমন আছো? তুমি কি নিরাপদে আছো? দিল্লীতে বসে সামাজিক-দূরত্ব চর্চা করতে পারছো?

অরুন্ধতী রায়: তুমি জানো,ভারতে ‘সামাজিক-দূরত্ব’ কথাটার ভয়াবহ অর্থ রয়েছে। কারণ, যেখানে একটা জনগোষ্ঠীর মানুষ বর্ণপ্রথার চর্চা করে সেখানে তারা সামাজিক-দূরত্বকে ভয়াবহভাবেই বুঝবে। তাই আমরা আরেকটা শব্দ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। আমরা একে বলছি, শারীরিক-দূরত্ব। আবার অনেক দরিদ্র দেশের মত ভারতেও সামাজিক-দূরত্ব বা শারীরিক-দূরত্ব আসলে তাদের জন্য যাদের বাড়ি আছে; যারা মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষ। গরীব মানুষের জন্য এই লকডাউনের মানে শারীরিক নৈকট্য। মুম্বাইয়ের একটা বস্তিতেই আড়াই বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ বসবাস করেন। দিল্লীর প্রধান সড়কগুলোর পাশে অল্পকিছু জায়গার মধ্যে মানুষ গাদাগাদি করে থাকেন। ফলে লকডাউন বলতে যা বোঝায় তার একটা নির্মম চিত্র আমরা এখানে দেখি।

মেহেদী হাসান: ভারতে যেখানে একশ কোটির বেশি মানুষের বাস সেখানে কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে কম। আক্রান্তের সংখ্যা বিশ হাজারের কম এবং এক হাজারের চেয়ে কিছু কম মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন এই পর্যন্ত। আমাদের কি এই সংখ্যা বিশ্বাস করা উচিৎ?

অরুন্ধতী রায়: আমি আসলে জানি না তুমি কোথাকার সংখ্যা বিশ্বাস করতে পারবে। কারণ এ পর্যন্ত যা পড়ছি আর দেখছি তাতে মনে হচ্ছে পরিসংখ্যানগুলো তৈরি করা  হয়েছে এমন এক ভিত্তির উপর যা একটা চাদরের মত উত্তাল সমুদ্রে ভেসে বেড়াচ্ছে। অনেক কিছুর উপরেই সংখ্যা নির্ভর করে। এই ভাইরাস যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতে একই ভাবে থাকে কি না? আবহাওয়ার কোনও ভূমিকা আছে কি না? পরীক্ষা করার মাত্রাটি কেমন? এখানে যেমন খুবই কম পরীক্ষা হচ্ছে। তারা বলছে ৮০ ভাগ পরীক্ষায় লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না। হয়তো যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত উভয় দেশেই আমাদের চিন্তার চাইতেও বেশি মানুষ ভাইরাসটি বহন করছেন। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, ৮০ ভাগ পরীক্ষায় লক্ষণ না পাওয়াটা একইসাথে সুসংবাদ এবং দুঃসংবাদ। আক্রান্তের হার কম হলেও হয়ত আমরা জানি না ঠিক কত মানুষ এই মুহুর্তে আক্রান্ত হয়েছেন।

মেহেদী হাসান: ভারতে এখন লকডাউন চলছে। তুমি একে বলেছো, ‘পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক লকডাউন’। আরও বলেছো, ‘এর যা করার কথা ছিল তার ঠিক উলটো কাজটাই করছে’। তুমি কি ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করবে? 

অরুন্ধতী রায়: আমি আসলে যা বলতে চেয়েছি তা হল, ধর প্রধানমন্ত্রী একদিন রাত ৮টায় এলেন এবং দেশের ১৩৮ কোটি মানুষকে ১ ঘন্টা সময় দিলেন নিজেদের বন্দী করে ফেলার জন্য। গণপরিবহণ থেমে গেল। সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল। এবং তুমি হঠাৎ দেখলে লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ যারা দিনের পর দিন গ্রাম থেকে শহরে এসে গাদাগাদি করে থেকেছেন; নির্মাণশিল্প, পোশাকশিল্প, আরও আন্যান্য জায়গায় মধ্যযুগীয় জমিদারি কায়দার অধীনে সস্তা শ্রম জুগিয়ে গেছেন তারা এই মাসে তাদের মজুরি পেলেন না। জমির মালিকও তাদের ভাড়া মওকুফ করলো না। ফলে, লকডাউন ঘোষণার পরের সকালেই লক্ষ লক্ষ মানুষ হাঁটা শুরু করলেন। তারা হেঁটে চললেন তাদের বাড়ির দিকে। একশ কিলোমিটার, দুইশ কিলোমিটার, আটশ কিলোমিটার হাঁটলেন। কারণ তাদের পয়সা ছিল না। কোনও খাবার ছিল না। তাদের আর কিছুই করার ছিল না। আমি বুঝতে পারলাম শহরে বিশাল কিছু একটা ঘটছে। তাই আমি আমার মিডিয়া-পাসটি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমি তাদের কয়েকজনের সাথে দিল্লী আর উত্তর প্রদেশের সীমান্ত পর্যন্ত হাঁটলাম। তাদের অনেকের সাথে কথা বললাম। এটা ছিল অবিশ্বাস্য। মনে হচ্ছিল, সরকার আসলে নিজেকে গরীবের সরকার বলে কখনও চিন্তাই করেনি। সরকারের সকল ভাষা আর ইঙ্গিত ছিল মধ্যবিত্তের জন্য। যেমন,বলা হয়েছে ‘বারান্দায় এসে দাঁড়ান’। মানুষের তো বারান্দাই নেই। মানুষের খাদ্য নেই। এই মানুষগুলো যখন হাঁটছিলেন তখন তাদের পেটানো হয়েছে। কারণ তারা কারফিউ ভেঙ্গেছেন। কেবল পেটানোই হয়নি, লাঞ্ছিতও করা হয়েছে। কান ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তুমি হয়তো ভিডিওতে দেখেছো, তাদের কয়েকজনকে কেমিক্যাল স্প্রে করা হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। অনেকেই পৌঁছাতে পারেনি। তাদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়, যাকে বলা হচ্ছে কোয়ারেন্টিন ক্যাম্প। তারা এখনও সেখানে আছেন। তাদের কাছে অর্থ নেই, খাদ্য নেই, তারা পরিবারের সাথে যোগাযোগও করতে পাচ্ছেন না।

আর্টওয়ার্ক: লকডাউন
শিল্পী: শো
সূত্র: ফেসবুক

মেহেদী হাসান: তুমি যখন কথাগুলো বলছো, ঠিক তখন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেস আরেকটি ‘প্রণোদনা বিল’ পাস করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অর্থের পরিমাণ কত হবে, বেকারভাতা কত বড় হবে, ছোট ব্যবসাগুলোকে কেমন সাহায্য দেওয়া উচিৎ, সাধারণ মানুষকে অর্থ দিতে হবে কি না, এমন আরও অনেক সমস্যা নিয়ে তারা বিতর্ক করছেন। আবার অন্যদিকে ভারতের মত দেশও আছে যেখানে সত্যিকার অর্থে নিরাপত্তার কোনও বালাই নেই। এটি পাশ্চাত্য ধাঁচের কল্যাণ রাষ্ট্রও নয়। সেখানে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে কোনও ধরনের আর্থিক সাহায্য ছাড়াই। ভারতে লকডাউন মানে তো তাহলে আক্ষরিক অর্থেই ‘অনাহার’।

অরুন্ধতী রায়: হ্যাঁ, অনাহার। আমি খাদ্য বিতরণের ভিডিও দেখছিলাম। দেখলাম সেখানে গোলোযোগ শুরু হয়ে গেছে। বড়রা বাচ্চাদের মাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের হাতে খাবারের থালা। মাইলের পর মাইল লম্বা সারি। ভেতরের ঘটনা আমরা জানি না। আমরা এখনও জানি না এই ট্রাজেডির কাঠামোটা আসলে কেমন। আমাদের ক্ষুধার সমস্যা আছে। আমাদের ঘৃণার সমস্যা আছে। আমাদের বেকারত্বের সমস্যা আছে। এবং কোভিডের বাহিরেও আমাদের বিশাল স্বাস্থ্য সমস্যা আছে। মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করে, এই ভাইরাসটি কী করেছে? আমি বলি, এক্স-রে’র মত এটা সবকিছু উন্মোচন করে দিয়েছে। ব্যবস্থার উলঙ্গ রূপ দেখিয়ে দিয়েছে। ভয়ানক যা কিছু আমরা করেছি আর যে ভয়ানক অসাম্য বজায় রেখেছি তা বিস্তৃতভাবে দেখিয়ে দিয়েছে। সবকিছুকে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে। ভারতে এসবই হয়েছে।

মেহেদী হাসান: তুমি ঘৃণা সমস্যার কথা বললে। অনেক মানুষ লিখেছেন, আমিও Intercept-এর জন্য লিখেছি, কীভাবে ভারতে এবং অন্যান্য দেশে ইসলাম-ফোবিকরা মুসলিম সংখ্যালঘুদের দানবীয়ভাবে রূপায়ন করতে এবং বলির পাঠা বানাতে এই মহামারিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ভারতে যেমন হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মুসলিমদের দোষারোপ করছে। তারা বলছে, মুসলিমরা বিরামহীন ভাবে ভাইরাস ছড়াচ্ছে। তারা হিন্দুবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ওদিকে আবার করোনা-জিহাদের সমস্যাটাও প্রকট হয়ে উঠছে। উগ্র ডানপন্থী জনতা ভারতীয় মুসলিমদের হত্যা করছে। এই মহামারি মুসলিমদের পরিস্থিতিকে আসলে কতটা ভয়াবহ করে তুলেছে বলে তুমি মনে কর? সম্প্রতি তুমি এই পরিস্থিতিকে ‘ধাবমান গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছো এবং বিপুলভাবে সমালোচিত হয়েছো।

অরুন্ধতী রায়: করোনা ভাইরাস আসার আগে থেকেই স্বাস্থ্যসেবা যেমন ঝুঁকির মধ্যে ছিল, মুসলিমদেরকে আক্রমণের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা ঠিক তেমনই। এ বিষয়ে আমি তোমার সাথে আগেও কথা বলেছি। বছরের পর বছর ধরে লিখছিও। জানুয়ারির ৩০ তারিখে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ঠিক আগে ডিসেম্বর মাসে সরকার একটা মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব আইন পাস করে ফেলে। ফলে গোটা দেশ টালমাটাল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে মুসলিম নারীদের নেতৃত্বে অহিংস আন্দোলন চলতে থাকে। কোথাও কোথাও এই সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। ভারতীয় সংবিধানের এই চূড়ান্ত অপমানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলতে থাকে। এর মধ্যেই ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লীতে একটা নির্বাচন হয়। বিজেপি তার সবচেয়ে উৎকট মুসলিমবিরোধী প্রচারণাটি নিয়ে হাজির হয়। বিজেপির বড় বড় নেতারা রাস্তায় এসে স্লোগান দেন, ‘ব্যাটারা সব দেশদ্রোহী, এই শালাদের মারো গুলি’। নির্বাচনে তারা হেরে যায়। এরপর মুসলিমদের শাস্তি দেবার জন্য উত্তর-পূর্ব দিল্লীতে হামলা করা হয়।

আর্টওয়ার্ক: দিল্লী রায়ট
সূত্র: সিয়াসত

পুলিশি নিরাপত্তায় ডানপন্থী হিন্দুরা এই হামলা চালায়। হত্যাকাণ্ড-ধ্বংসযজ্ঞ চলে। মুসলিমরাও পাল্টা আঘাত করেছিল। কারণ সেই জঘণ্য পরিস্থিতি সেটাই করছিল। মৃতদেহ পড়ে ছিল ড্রেনের ভেতর। সেগুলো বের করা হচ্ছিল। সারি সারি জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বাড়িঘর। হাজার হাজার মানুষ কবরস্থান আর রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। সেসময় ট্রাম্প এখানেই ছিল, আর মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই চলছিল হত্যাকাণ্ড। স্টেডিয়ামে এক লক্ষ মানুষ তাকে বরণ করে নেয়। আহমেদাবাদের রাস্তায় লক্ষাধিক মানুষ অবস্থান নেয়। এসব হয়েছে। যদিও আমরা জানতাম করোনা ইতিমধ্যে চলে এসেছে। ১৩ই মার্চের আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একে জরুরি অবস্থা বলে নাই। লকডাউনের ঠিক আগে তাবলিগ জামাত নিজামুদ্দিনে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ করে। আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে ১০-১৫ মিনিট দূরেই। লকডাউন ঘোষিত হবার সময় এই মানুষগুলো সেই ছোট্ট জায়গাটির ভেতরেই ছিলেন। এরপর তারা স্থান ত্যাগ করেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই ততক্ষণে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের খুঁজে বের করে পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে পরিসংখ্যানটিকে এমন দেখাচ্ছে। একই সময় হিন্দু মন্দিরগুলোতেও বড় বড় সমাবেশ হচ্ছিল। তবুও মুসলিমদের বলা হতে লাগল, ‘মানববোমা’, ‘করোনা-জিহাদি’। এমনকি এখনও এসব চলছে। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে, টিভিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হল। তাদেরকে ভাইরাস ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হল। ভয়াবহ সব ঘটনা।

আমি আজকেই পড়ছিলাম, হাসপাতাল বলছে মুসলিমরা এখানে আসতে পারবে না অথবা আগে তাদের কোভিড পরীক্ষা করাতে হবে। কোথাও কোথাও মুসলিমদের আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। আজকে ঝাড়খণ্ডের এক গর্ভবতী মেয়ের ঘটনা পড়ছিলাম। তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন এবং তার ভাষ্যমতে তাকে জুতো দিয়ে পেটানো হয়। শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে মেঝেতে পড়তে থাকলে তাকে মেঝে পরিষ্কার করতে বলা হয়। এবং শেষ পর্যন্ত তার বাচ্চাটি মারা যায়। ভারতীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যম এ ধরনের প্রোফাইলিং করার ক্ষেত্রে খুবই দক্ষ। এই কারণেই আমি এই পরিস্থিতিকে ‘ধাবমান গণহত্যা’ বলেছি। গণহত্যার ইতিহাস বিষয়ে জ্ঞান রাখেন এমন যে কেউ তোমাকে বলবে, গণহত্যা কোনও এক রবিবারে হুট করে ঘটে যাওয়ার মত বিষয় নয়। এখানে সাংস্কৃতিক প্রস্তুতির বিশাল একটা ব্যাপার থাকে। একটা গোটা জনগোষ্ঠীকে বিমানবীকরণ করা হচ্ছে। তাদের আলাদা করে ফেলা হচ্ছে। ১৯৩০ সালে নাৎসিরা যেভাবে টাইফাস ব্যবহার করে ইহুদীদের কলুষিত করেছিল একই ভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব বিলটি উত্থাপন করছেন তখন তিনি বাংলাদেশি মুসলিম অভিবাসীদের বলে বসলেন ‘উঁইপোকা’। আমি আসলে একটা সাংস্কৃতিক প্রস্তুতির কথা বলছি যা অবশ্যই গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। ভয় না পেয়ে এখানে বাস করা আর দিনরাত এইসব প্রোপাগান্ডা শুনতে থাকা একেবারেই সম্ভব নয়।

মেহেদী হাসান: তুমি তোমার সমালোচকদের কী বলবে? অনেক মুসলিমকেও তো বলতে শোনা যায়, ‘অরুন্ধতী, আমরা গণহত্যার মুখোমুখি নই’। প্রায় ২০ কোটি মুসলিম এইদেশে বাস করেন, মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। তাদের মতে এই সংখ্যা তাদের নিরাপত্তা দেবে; পরিস্থিতি খারাপ কিন্তু এতটাও খারাপ নয় যতটা তুমি বলছো। এ ব্যাপারে তুমি কী বলবে?

অরুন্ধতী রায়: আমি বলছি না যে ২০ কোটি মানুষকে মানচিত্র থেকে স্রেফ মুছে ফেলা হবে। আমি বলছি আসলে ঝোঁকটার কথা। ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি, ডিটেনশন ক্যাম্প এসব একধরনের মোড়লতন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখানে কিছু মানুষ অন্যদের চেয়ে বেশি অধিকার ভোগ করবে। এবং তারপর এই প্রোফাইলিং। খুবই বিপজ্জনক এক চিত্র। মুসলিমরা রাস্তাঘাটে বিপদে পড়ছেন। যেকোনো মুসলিম যেকোনো সময় বিনা কারণে খুন হয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি হল, কোনও কিছু না ঘটা পর্যন্ত সে সম্পর্কে চুপ থাকার কোনও মানে নেই। আমার মত মানুষেরা বছরের পর বছর ধরে এসব নিয়ে কথা বলে যাচ্ছেন। এসব ঘটনাও ঘটেই যাচ্ছে। আবার কিছু মানুষ আছে যারা বলছে, পরিস্থিতি এতটাও খারাপ নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে সাড়া দেবার এটাই কি উপায়? কিছুদিন আগেই লক্ষ লক্ষ মানুষ, নারী, পুরুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। তারা ঘরে ফিরে যেতে অস্বীকার করেছেন কারণ তাদের ভবিষ্যৎ সুতায় ঝুলছে। তারপর হঠাৎ করোনা ভাইরাস এসে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ঘরে পাঠিয়ে দিল। প্রত্যেককে আলাদা করে ফেলা হল। আন্দোলনের সংগঠকদের গণহারে গ্রেফতার করা শুরু হল। ছাত্রছাত্রী আর বুদ্ধিজীবীদের ঘিঞ্জি কারাগারে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। আর এখন আমাদের বলতে হবে পরিস্থিতি এতটাও খারাপ নয়? আমি বলছি না এখন গণহত্যা চলছে। আমি বলছি একটা গোটা জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে ফেলার গতিটা কেবল দেখো। আসো এই প্রক্রিয়াটির দিকে মনযোগ দিই।

মেহেদী হাসান: আমি আনন্দিত যে তুমি এটা বলছো। কাউকে না কাউকে তো বলতেই হবে। কাশ্মীরের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাই। কাশ্মীর,ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য, একটা বিশেষ ধরনের লকডাউনের মধ্যে আছে। গত আগস্টে সেখানে সেনা অভিযান হয়। গণ-গ্রেফতার, কারফিউ, চেকপয়েন্ট, ইন্টারনেট ব্লকেজ, মিডিয়া-ব্ল্যাকআউট চলতে থাকে। তো অরুন্ধতী, আমরা কি জানি এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরিরা কীভাবে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করছে? বিশেষ করে যখন তাদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে কারাগারের ভেতর।

অরুন্ধতী রায়: দেখো, কাশ্মীরে ঘিঞ্জি বস্তি বা শরীরে শরীরে ঘেঁষাঘেঁষির সমস্যাটা নেই। এটা একটা ভালো দিক। কিন্তু তারা অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিপদে আছেন। তারা একটা ‘ডাবল-লক’ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। আর্টিকেল-৩৭০ প্রত্যাহার করার পর থেকেই তারা লকডাউন হয়ে আছেন। আর এখন এই করোনা লকডাউন। আমার ধারণা করোনা লকডাউন তাদের ততটা মাথাব্যথার কারণ নয় যতটা হল কিনা রাজনৈতিক এবং সামরিক লকডাউন। আজকে একজন তরুণ ফটো-সাংবাদিক এবং আরেকজন সাংবাদিকের খবর এসেছে। ‘বে-আইনি’ কর্মকান্ড চালাবার অভিযোগে তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এখানে ভয় এবং বিচ্ছিন্নতার এক প্রবল অনুভূতি কাজ করছে। লকডাউন চলাকালে কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডকে কিন্তু লকডাউন করা হয়নি। বরং এটি খুব দ্রুত গতিতে কাশ্মীরের আইনকানুনগুলোকে বদলে দিচ্ছে। শেখাচ্ছে অনুগত থাকার আইন। যে সমস্ত কাজ করতে তারা একসময় ভয় পেত তার সবই এখন করা হচ্ছে। মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে ঘরে ঢোকানো হয়েছে। এটা কেবল ভারতের ব্যাপার নয়। এটা গোটা দুনিয়ার জন্যই চরম ভীতিকর এক দৃশ্য।

আর্টওয়ার্ক: সোসাল ডিসটেন্স
শিল্পী: মির সুহায়েল
সূত্র: কার্টুন মুভমেন্ট

আমরা এই ডিজিটাল যুগে এমন এক পরিস্থিতিতে করোনার মুখোমুখি হয়েছি যখন অর্ধেক দুনিয়া শাসন করছে খুবই নিম্ন-বুদ্ধিমত্তার কিছু কর্তৃত্ববাদী মানুষ। তারা নজরদারি বাড়াচ্ছে আমাদেরকে হাতে ডিজিটাল হাতকড়া পরিয়ে বন্দী করবে বলে। সমাজ থেকে সকল ধরনেরর সম্মান এবং স্বাধীকার নির্মূল করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই চিন্তিত হওয়া উচিৎ। এ কারণেই আমি লিখেছি,এই মহামারি আসলে একটা ‘পোর্টাল’। একটা পোর্টাল যার ভেতর দিয়ে এখন আমরা যাচ্ছি। একদিকে একদল মানুষ যাদের কাছে এই সমস্যার সমাধান হল অবিচারকে আরও গভীরে প্রোথিত করে দেওয়া। এই মহামারির কালেই ডোনাল্ড ট্রাম্প চাঁদে খনন-কার্য চালাবার অনুমতি প্রদান করেছেন। চাঁদ তার অধিকারে; কোনও কবি বা প্রেমিক/ প্রেমিকার অধিকারে নয়। বাণিজ্যিকীকরণ, নৃশংস ধরনের পুঁজিবাদ, ডিজিটাল নজরদারি; এসব কিছুকে অতি দ্রুতই স্থান করে দেওয়া হচ্ছে। বৈশ্বিক জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ নিজেদের গৃহেই অবরুদ্ধ হয়ে হয়ত ভাবছেন গোটা যন্ত্রটিকে পুনরায় ভেবে দেখবার এইতো সুযোগ। কিন্তু ঘরে বন্দী থেকে কীভাবে আমরা ক্ষমতা নিতে পারি? আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করতে হবে, গৃহে অবরুদ্ধ হয়ে পড়াটা আসলে আমাদের জন্য সঠিক কি না?

মেহেদী হাসান: Financial Times-এ প্রকাশিত প্রবন্ধটির কথা তুমি বললে। তুমি পোর্টালের কথা বললে। তুমি বললে মানুষ ভিন্ন একটা ভবিষ্যৎ ভাবার চেষ্টা করছে। আমি জানতে চাই তুমি আশাবাদী না নিরাশাবাদী?

অরুন্ধতী রায়: আমি এমন সব মানুষদের সাথে যুক্ত আছি যারা অনেক বছর ধরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে লড়াই করছেন। তারা আশাবাদী অথবা নিরাশাবাদী হবার এই দ্বৈতের মধ্যে নেই। কারণ আমরা জিতি বা হারি; লড়াই আমাদের করে যেতেই হবে। এটা আশাবাদ বা নিরাশাবাদের প্রশ্ন নয়, কারণ অনেক মানুষের কাছে সেই সুযোগটিই নেই। মধ্যবিত্তের হয়ত সুযোগ আছে কিন্তু একটা বিশাল অংশের মানুষ লড়াই করছেন কেবল অস্তিত্বটুকু টিকিয়ে রাখতে। এবং লড়াই না করার সুযোগ তাদের নেই। আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হল,আমার বুঝতে অনেক কষ্ট হয়; একদিকে মহামারি সংক্রান্ত সংবাদের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ যেখানে মান্দারিনরা ক্রমাগত যুদ্ধের ভাষা ব্যবহার করে যাচ্ছেন। যুদ্ধ মানে তো মানুষকে হত্যা করা; প্রাণ বাঁচানো নয়। কিন্তু তারা প্রাণ বাঁচাবার চেষ্টাই সম্ভবত করছেন। অথচ এদিকে পর্যাপ্ত ঔষধ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার একই সময়ে এই একই দলের মানুষ ইরাকে ঔষধ পাঠাতে অস্বীকার করছেন, যেখানে লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে। ফলে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর এই ধারণা একই সাথে বিনাশেরও ধারণা। পারমানবিক অস্ত্র, রাসায়নিক অস্ত্র, জৈব অস্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি; এসবই এই বিনাশের একধরণের স্বীকার। শেষ পর্বতটা খনন করবার পর,শেষ নদীটিতে বাঁধ দেবার পর, শেষ জীবাষ্ম জ্বালানিটুকু পুড়িয়ে ফেলার পর যে কেয়ামত তুমি আনতে যাচ্ছো তার কাছে করোনা ভাইরাস তো খেলনা মাত্র।

মেহেদী হাসান: গত সপ্তাহে নোম চমস্কিও একই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তিনি বললেন, আধুনিক মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহুর্তে আমরা বাস করছি। করোনা ভাইরাসের কারণে নয় বরং এর পরে যা আসতে যাচ্ছে তার কারণে। কারণ, ভ্যাকসিন বানিয়ে ফেললেও বরফপুঞ্জ তার গলে যাওয়া থামাবে না।

অরুন্ধতী রায়: একদম তাই। যেমন ধরো, কাশ্মীর ভৌগোলিকভাবে একটা সম্ভাব্য পারমানবিক যুদ্ধের সীমানায় অবস্থান করছে। এই ইসলাম-ফোবিয়া এবং কাশ্মীরিদের দানবীয় রূপায়ন সকলকে এক অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বিষয়গুলোর দিকে মনযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

মেহেদী হাসান: গত বছরের শুরুতে যখন তোমার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তখন আমরা কথা বলছিলাম কংগ্রেসকে নিয়ে। কীভাবে স্বাধীনতার পর থেকে বিজেপির উত্থানের পূর্ব পর্যন্ত তারা ভারতীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর নিজেরই একটা ভয়াবহ ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু তবুও বিজেপির মত ফ্যাসিবাদী দলের চাইতে কংগ্রেস কিছুটা হলেও বেশী সমর্থনযোগ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাম-ঘেঁষা অনেকেই নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে গভীর বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলছেন, হ্যাঁ, ট্রাম্প একজন ভয়াবহ নেতা। কিন্তু তাই বলে তো তুমি জো বাইডেনের মত একজন নয়া-উদারবাদী যুদ্ধবাজকে ভোট দিতে পারো না। গত সপ্তাহে আমার সাথে এখানে নোম চমস্কি ছিলেন এবং বললেন,তিনি চোখ বন্ধ করে বাইডেনকে ভোট দেবেন। কারণ,দুই শয়তানের মধ্যে সে একটু কম শয়তান। তোমার কাছেও আমার একই প্রশ্ন। তুমি কি মোদীর বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে ভোট দেবে, তা সে যতই খারাপ হোক? তুমি কি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একজন ডেমোক্র্যাটকে ভোট দেবে,তা সে যতই খারাপ হোক? তোমার অবস্থান কী?

অরুন্ধতী রায়: কয়েক বছর আগে হলে, হয়তো তখন আমার বয়স কম ছিল বলে বা পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না বলে, আমি একটা বিশুদ্ধ অবস্থানই নিতাম এবং নিয়েছিও। কিন্তু এখন আমি মনে করি ট্রাম্পকে সরিয়ে দিতে হবে। এবং আমি হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের ছাড়া যে কাউকে ভোট দিব এবং আমি দিয়েছিও।

আর্টওয়ার্ক: মোদি
শিল্পী: মেহেদী
সূত্র: মেহেদী’জ কার্টুন

মেহেদী হাসান: তোমার কাছে সর্বশেষ একটি প্রশ্ন। অনেক মানুষ ভারতকে দেখছেন এবং নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে দেখছেন। রক্তপাতের ইতিহাস এবং বিজেপি ও আরএসএসের ভাবাদর্শের কথা চিন্তা করলে মোদীর পাশে ট্রাম্পকে মামুলি মনে হবে। এই মানুষটা সত্যিকার অর্থেই নাৎসি এবং ইতালীয় ফ্যাসিবাদীদের মত ফ্যাসিবাদ-সদৃশ্য ভাবাদর্শ ধারণ করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ধরনের কোনও ভাবাদর্শ নেই। যারা এই মুহুর্তে ভারতের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং মোদী কত খারাপ তা দেখছেন কিন্তু জানছেন না কী করতে হবে, তাদের জানানোর জন্য তোমার কাছে কী উপদেশ রয়েছে? যারা ভারতে গণতন্ত্র, সমতা, ন্যায়বিচারের জন্য এবং বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তাদের এই লড়াইয়ে সাহায্য করার জন্য পৃথিবীবাসী কী করতে পারে?

অরুন্ধতী রায়: বছরের পর বছর ধরে ভারতে কী ঘটে যাচ্ছে সে সম্পর্কে কিছু বলাটাও ইদানিং কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ সকলেই বলিউড, ইয়োগা, গান্ধী, সুন্দর খেলনা এসব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গণতন্ত্র তো আর তেমন সুন্দর নেই। কিন্তু যখন তুমি সত্যিকার অর্থেই চেষ্টা করবে এবং তাদের দেখাবে বর্ণপ্রথা কী, হিন্দু জাতীয়তাবাদ কী, শ্রেণী কী তারা কিন্তু দেখবেন। আমার মতে বর্ণপ্রথা হল বিশ্বের মধ্যে সবচাইতে বর্বর মোড়লতান্ত্রিক এক সামাজিক বিন্যাস। এটা মোটেও মানবিক নয় যে, মানুষকে উপর থেকে সাজিয়ে পাঠানো হয়েছে; একটা সেরা জাতি আছে ব্রাহ্মণ আর আছে অচ্ছুৎ। দেখতেই পাচ্ছো এখান থেকে একটা ফ্যাসিস্ট অবস্থানে চলে যাওয়া কত সহজ, যেখানে তুমি একটা সেরা জাতির ধারণাকে গ্রহণ করে নেবে। তাই আমি বলব মানুষকে প্রথমত এটা বুঝতে হবে। পুরাতন ধারণাগুলোকে ফেলে দিতে হবে। ভারতে অনেকেই আছেন যারা এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, লড়াই করছেন। কিছু লেখক কেবল নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে নেই।

মেহেদী হাসান:রাজনৈতিক মহলের মানুষ এবং ধর্মীয় মহলের মানুষ যেমন, হিন্দু, মুসলিম, খ্রীষ্টান, এথিস্ট অনেকেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন?

অরুন্ধতী রায়: সকল হিন্দুই তো হিন্দু জাতীয়তাবাদী নন। ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ছিল কবিতা, ছবি আর একটা সেক্যুলার, বৈচিত্র্যময় রাষ্ট্র ধারণার পক্ষে এক চমৎকার সময়। খুবই সুন্দর ছিল সব কিছু লকডাউন শুরু হবার আগের মাসগুলোতে। আর যখন লকডাউন শুরু হল তখন সাথে শুরু হল গ্রেফতার। নিশ্চিত করা হল লকডাউন শেষ হলে বিক্ষোভের বিষ্ফোরন যেন আর না ঘটে। কারণ আইনগুলো তো থেকেই যাবে। তবে আমার ধারণা বিশ্ব বুঝতে শুরু করেছে এই দেশ যেমন ছিল তেমনটি আর নেই। জায়গাটি এখন বিপদজনক।

মেহেদী হাসান: এটা সত্যিই দুঃখজনক ভারত থেকে এই ধরনের গল্প শুনতে হল। এই বিপদজনক জায়গায় অরুন্ধতী তুমি প্লিজ নিজের খেয়াল রেখো। কেবল করোনা ভাইরাসের কারণে নয়। আমি জানি এভাবে কথা বলার জন্য হুমকি এবং চাপ আসতে পারে এবং আমরা এটার তারিফ করি। তোমাকে ধন্যবাদ সময় বের করে কথা বলার জন্য। আমি চাইব তুমি কথা বলা জারি রাখবে এবং অবশ্যই সাবধানে থাকবে।

তাসবির কিঞ্জল

তাসবির কিঞ্জল

তাসবির কিঞ্জল

তাসবির কিঞ্জল