অরাজ
আর্টওয়ার্ক: ল্যামেন্টেশন শিল্পী: আমান উল্লাহ সূত্র: ফেসবুক
প্রচ্ছদ » তল থেকে মহামারির কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে না

তল থেকে মহামারির কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে না

  • সায়েমা খাতুন
আর্টওয়ার্ক: মায়াগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স
শিল্পী: লাবনী জাঙ্গি
সূত্র: পারী

আমজনতার পাল

ঢাকায় এখন সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গে এক মনোহর পাখপাখালির কলরবে। কত যুগ এই কলরব শুনি  নাই, মনে পড়ে না। চারপাশ এতো নিস্তব্ধ, কেবল কুহু কুহু কুজন আধো ঘুমে আধো জাগরণে শরীরের চারপাশ ছেয়ে রাখে। এখনও কিছু গাছপালা টিকে আছে। সবুজতর হয়ে উঠেছে ছোটছোট অদম্য দ্বীপগুলো। বাতাসে সুনীল নির্মলতা। কতদিন রাস্তায় আর হাঁটতে যাই না, উঠে ছাদে যাই। বুক ভরে বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিয়ে নিই। এই কোভিড-১৯ মহামারি কেবল জীবন নিয়েই যাবে না, নতুন করে জীবন দিয়েও যাবে। দুনিয়ার কলকারখানা, জাহাজ-বিমান-রেল-গাড়ির চলাচল বন্ধ হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়া থেমে গেছে। এই সুবর্ণ সুযোগে পৃথিবী নিজেই নিজের ওজন স্তরের ফুটো মেরামত করে নিয়েছে। পাখপাখালি-জীব-জানোয়ার অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে শহরের রাস্তায় রাস্তায়। বেলা বাড়তে থাকলে অচিরেই এমন ক্ষণস্থায়ী স্বস্তির বাতাস কেটে ভেসে আসে ‘আম্মা কিছু সাহায্য করেন, বাড়িতে খাবার নাই’– এমনতর আর্তস্বর। উন্নত নগরীর হাইরাইজে বিশ্রামরত নাগরিকদের সব ভাল থাকাকে ভেঙ্গে চুরে খান খান করে দেয়। এরা কারা? এরা কি দেশের নাগরিক? ২ মে, ২০২০ শুক্রবার রাত বারোটায় রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের উপর দুই কিলোমিটার রাস্তা ধরে হাজার হাজার কর্মহীন মানুষের ত্রাণের আশায় বসে ছিল, যাদের না আছে সঞ্চয়, না আছে খাবার, কতজনের জন্যে কি ত্রাণ আসবে– কেউ জানে না। প্রতিদিন এ রকম অসংখ্য রিপোর্ট আসে। একি এক কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের আভাস দিচ্ছে না? কোথায় কতজন নারী-পুরুষ-শিশুর কি পরিমাণ ত্রাণ প্রয়োজন তা নিয়ে সরকারের কাছে কি পর্যাপ্ত তথ্য নেই? ১৭ মার্চ ২০২০-এ ‘নিও নরমাল’ লক ডাউন জীবন শুরু হওয়ার পরে অধিকাংশ কলকারখানা, দোকানপাট, সেবা বন্ধ হয়ে পড়াতে কোটি কোটি কর্মহীন সঞ্চয়হীন সম্পদহীন পরিবারে নেমে এসেছে অনাহার, রোগশোক, সংক্রমণ ও মৃত্যুর বিভীষিকা।

এই সুখবর ভুলে গেলে চলবে না যে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এবারে খাদ্য উৎপাদন বেশি হয়েছে। বিশ্বে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট থাকলেও খাদ্যের কোন অভাব নেই। দেশের সরকারি খাদ্য গুদামে ১৪ লক্ষ টন খাদ্য মজুত আছে, যা গত বছরের চেয়ে ৪% বেশি। এবারে বোরো ফলন বাম্পার হয়েছে। এই মৌসুমে আরও ২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য সংগ্রহ করবে সরকার। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫০ হাজার টন গম আমদানি করেছে। গত বছরের মে থেকে এ বছরের এপ্রিল (২০১৯-২০) পর্যন্ত বাংলাদেশে চাল উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে বলে আগামি বছর (২০২০-২১) বাংলাদেশে আরও ১০ লক্ষ মেট্রিক টন উৎপাদন বাড়বে, বলেছে যুক্তরষ্ট্রের কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক সংস্থা (USDA)। মোটকথা, আমরা খাদ্যের প্রাচুর্যের যুগে বাস করছি। দেশে খাদ্যের কোন সংকট নেই, কিন্তু আছে অনাহারী মানুষ। উদ্বেগের বিষয় হল, কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়াতে মানুষের হাতে খাদ্য কেনার টাকা আসবে কিভাবে?

আর্টওয়ার্ক: ড্রিম অব এ হার্মিংবার্ড
শিল্পী: ফারহানা ইয়াসমিন
সূত্র: ফেসবুক

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহামারি শুরুর আগে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল সোয়া তিন কোটির বেশি। গত দেড় যুগে যে আড়াই কোটি মানুষ নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বেরিয়ে এসেছিলো, এই লকডাউনে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে । বিশেষ করে যেহেতু দেশের ৮৫% মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে, তাদের রোজগারের কোন নিশ্চয়তা নেই, না আছে আপৎকালীন সঞ্চয়। ফলে পুরনো দরিদ্র জনগোষ্ঠী সাথে নতুন করে যোগ হতে যাচ্ছে প্রায় নতুন করে সৃষ্টি ৪১% দরিদ্রদের দল। ব্র্যাকের সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা যায় যে, করোনার ফলে দেশের নিম্নবিত্তের আয় ৮৫% কমে গেছে। হতদরিদ্র অর্থাৎ যাদের দৈনিক আয় ১৬০ টাকার কম এমন মানুষের সংখ্যা ৬০% বেড়ে গেছে। পৃথিবীর ক্লাসিক নয়া উদারবাদী দেশগুলোর মতো নয়া মধ্যআয়ের দেশ বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্যে কোন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অবকাঠামো সৃষ্টি করা হয়নি। ফলে খরা, বন্যা, ঝড়, মহামারি– যে কোন ধরনের দুর্যোগেই মুহূর্তের মধ্যে প্রান্তিক গোষ্ঠীর মানুষ বেঁচে থাকার সম্বল হারিয়ে বারে বারে দারিদ্র্য সীমার নীচে অনাহারে, অর্ধাহারের জীবনে নেমে যায়। করোনার মধ্যে ২১ মের এক রাতেই ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ২২ জনের প্রাণহানি হল। পৌনে দুই লাখ হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হল, সম্বল হারা মানুষের সংখ্যা এখনও অজানা।

অর্থনীতি বাঁচাতে সরকার বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা ঘোষণা করেছে যার আকার ৯৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। (৩ মে, ২০২০ ডয়চে ভেলে) । এই মুহূর্তে মহামারি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের বড় কৌশল হল পাঁচটি প্রণোদনা প্যাকেজ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান এবং হতদরিদ্র জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া। এপ্রিলের মধ্যে ত্রাণ আকারে চল্লিশ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। ষাট হাজার মানুষকে ফোন করা হয়েছে, দুইলাখ মানুষকে মোবাইল মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখিরেখার চূড়ায় বসে একে নিচে নামিয়ে সমান করতে হলে এখন পর্যন্ত আরও কিছু সময় লকডাউনের কোন বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ২৮,৫১১; সুস্থ ৫,৬০২  এবং মৃত ৪০৮  জন। এই সংখ্যা করোনার উপসর্গে মৃত্যুর যে হিসাব প্রতিদিন পত্রিকায় আসে, তার থেকে খুবই ভিন্ন। বাংলাদেশে টেস্টের সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে কমের দিকে। পত্রিকার আসা রিপোর্টগুলোর ভিত্তিতে করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশ পরিস্থিতি শিরোনামে একটি গবেষণায় ৮ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, সরকার ঘোষিত তথ্য-উপাত্তের তুলনা করা হয়েছে এবং মৃতদের চিকিৎসা প্রাপ্তির পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে করে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বাস্তবে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি (৩ মে ২০২০)।

নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক মুজীবুল আনাম এই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রশ্ন করেছেন, ‘আমরা কি সংখ্যা দ্বারা আক্রান্ত?’। অর্থনীতি আর জনস্বাস্থ্যের এই দুইপ্রকার পরিসংখ্যানের বিপুল সংখ্যার খেলা প্রতিদিন আমাদের সামনে দৃশ্যমান বাস্তবতাই নয়, আমাদের জীবনকে সম্পূর্ণ কব্জায় নিয়ে নিয়েছে এই সংখ্যার ন্যারেটিভ। সংখ্যার রাজনীতির মাঠে বিশেষজ্ঞদের লড়াই চলছে সংখ্যা দিয়ে। কিন্তু এই বাস্তবতায় মানুষগুলো কই? সংখ্যার দৃষ্টিনন্দন প্রেজেন্টেশন নিয়ন্ত্রণ করছে জনগণের জীবনের সকল সিদ্ধান্ত, যা তাদের মোটেই বোধগম্য নয়। কিন্তু আমজনতার যাপিত জীবনকে এই সংখ্যার চোখ ধাঁধানো ডিসপ্লে বোর্ডে দেখতে পাচ্ছেন কি? জীবনের গল্পগুলোকে কি কানে শুনতে পাচ্ছেন? মহামারি ক্লিষ্ট, মৃত্যু ভয়ে ভীত, অনাহারে মনুষ্যত্বের মর্যাদা হারিয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে গ্রামের দিকে পলায়নরত মানুগুলোকে গরু-ছাগল-ভেড়ার পালের মত কারা রিপ্রেজেন্ট করছে? অর্থনীতি কব্জা করে, ভেন্টিলেটর কব্জা করে, মিডিয়া কব্জা করে, ভাষা কব্জা করে বুদ্ধিমান হোমো সাপিয়েন্সের সংখ্যাগরিষ্ঠের মানবিক মর্যাদা ছিনিয়ে মানবেতর অবস্থায় ছুঁড়ে দিয়ে কতিপয় কে বা কারা ত্রাতার ভূমিকায় নেমেছে? মিডিয়ার উন্নাসিক স্পর্ধায় ত্রস্ত পলায়নপর মানুষগুলোকে দেখাচ্ছে বিশৃঙ্খল জনতার পিণ্ড হিসেবে, যাদের কোন সমাজ নেই, সংস্কৃতি নেই, পরিবার নেই। এরা কি কারো পিতা, স্বামী, মাতা, স্ত্রী, কন্যা, ভগ্নী নাকি মূর্খ অশিক্ষিত জংলি-জানোয়ারের দল মাত্র? এরা মধ্যে কি কেউ প্রেমিক, প্রেমিকা, বন্ধু, কবি, গায়ক, চিন্তুক, নেতা ও সংগঠক হতে পারে? এদের পক্ষে কি ‘কারও লাগি মালা গাঁথা’ সম্ভব নয়? করোনার কালে কি আমসমাজে প্রেম-বন্ধুত্ব-ভালবাসা- করুণার মত মানবিক শক্তির প্রকাশ হতে পারে না?

কোন বিশেষজ্ঞতার অন্ধত্বে রক্তে-মাংসের জীবন্ত মানুষগুলোর জলজ্যান্ত জীবনের সংগ্রামকে দেখা যাচ্ছে না? কেন দেখতে পাচ্ছি না সংগ্রামী মানুষের সৃষ্টিশীল কৌশল, মানসিক শক্তি, নৈতিক দৃঢ়তা, সামাজিক সংহতির শক্তি এবং আধ্যাত্মিক ক্ষমতার বিপুল প্রকাশ? এ পর্যন্ত মহামারি নিয়ে যত মতামত, চিন্তাভাবনা, আলাপ- আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের সুনামি বয়ে যাচ্ছে, তার প্রায় সবটাই বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকদের দখলে। এই হট্টগোলে জনমানুষের আলাপ-বিলাপ কোথায়? মানব ইতিহাসের সবচাইতে বড় এই দুর্যোগে আমজনতা কি করেছিল? আমজনতার কি কোন এজেন্সি ছিল, আছে বা থাকতে পারে? সেইসব গল্প উচ্চবর্গের হট্টগোলের তলায় চাপা পড়ে গেছে। নীরব হয়ে রয়েছে আমজনতার কণ্ঠস্বর।

মহামারিতে দারিদ্র্যের পুনরুৎপাদন এবং নীরব গণহত্যা

ভারতীয়-আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী অখিল গুপ্ত তাঁর সুদীর্ঘ গবেষণা গ্রন্থ দ্য রেড টেপ এ দেখিয়েছেন, কিভাবে ভারতে ব্যাপক দারিদ্র্য উৎপাদন শেষ পর্যন্ত কাঠামোগত সহিংসতার ফসল। এই এথনোগ্রাফিক গবেষণার বয়ানগুলো পড়তে পড়তে দেখা যায়, একই ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর উত্তরাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের দারিদ্র উৎপাদনের মডেল প্রায় অবিকল এক রকম। এই দারিদ্র স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক নয়– রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পলিসি, আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির মধ্য দিয়ে দারিদ্র সৃষ্টি হয় এবং টিকে থাকে। এই দারিদ্র বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘকাল রোগশোক, অনাহার, বেকারি ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে বাঁচতে বাধ্য করে রাষ্ট্রই তাদের অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। শুধু তাই নয়, এই সহিংসতা প্রকটভাবে দৃশ্যমান হওয়া সত্ত্বেও মিডিয়া ও সাহিত্যের বাগাড়ম্বরের তলায় অদৃশ্য করে ফেলে। শিক্ষিত-এলিট উচ্চবর্গ হিসেবে বেড়ে ওঠায় উদারবাদী মূল্যবোধ আমাদের এমন একটা লেন্স দেয়, যাতে এই নোংরা দরিদ্র ক্ষুধার্ত অপুষ্ট মানুষগুলো চোখের সামনে জ্বলজ্যান্ত ঘোরাফেরা করা সত্ত্বেও আমাদের চোখে তারা যেন ভুতের মত অদৃশ্য থেকে যায়। আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া রোজকার বৈষম্য, অন্যায্যতা, দুর্নীতি, পরিবেশের সমূহ বিপর্যয়ের চাক্ষুষ জাজ্বল্যমান সাক্ষ্য-প্রমাণগুলোকে ঠিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না, উন্নয়নের গালভরা রূপকথাগুলোকেই বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। ভাষা, বাতচিৎ, এবং পরিবেশনের চাতুর্যে দারিদ্র ও দূষণ উৎপাদনের কারখানাকেই জিডিপি সমৃদ্ধির উৎস মনে হয়।

আর্টওয়ার্ক: ফার্মার
শিল্পী: ফারহানা ইয়াসমিন
সূত্র: ফেসবুক

এই দারিদ্য কেবল অর্থনৈতিকভাবেই পুনরুৎপাদিত হয়, তা নয়; সামাজিক সাংস্কৃতিকভাবে পুনরুৎপাদিত না হলে এইভাবে বৈষম্যকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করে তোলা সম্ভব হত না । অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটরের অভাবে, কিংবা হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে করোনা আক্রান্ত হয়ে শত শত মৃত্যুকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মনে হয়। রাস্তার পাশে ক্ষুধার্ত সংক্রমিত মানুষের মৃত্যু দেখে অপরাধবোধের দংশন ছাড়াই গাড়ি করে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায়, ঈদের শপিং করা যায়, কৃষকের কাঁচা ধান কেটে দেয়া যায় কোন রকম নৈতিক সংকট ছাড়াই। কেবল নিও-লিবারেল ইকোনমি একা এ কাজটা করতে পারে না। একটা গোটা সাংস্কৃতিক, মতাদর্শিক, নৈতিক ব্যবস্থার শক্তিশালী মেশিনারি অতি ধনীদের, কর্পোরেটদের নৈতিক জীবনকে মসৃণ করতে, অপরাধবোধ মুক্ত করে, মানসিক বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করতে সদা ক্রিয়াশীল। দারিদ্র এবং কাঠামোগত অবস্থাকে টিকিয়ে রেখে কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি, চ্যারিটি, ফিলানথ্রোপি, ভিকটিম ব্লেমিং, ব্যক্তিগত সচেতনতা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, ব্যক্তিগত দায়িত্বের উদার মূল্যবোধের বাতাবরণে তারা নিজেদের মানবিক অধঃপতনকে ঠেকনা দেয়। দারিদ্র্যকে একটা গোটা ব্যবস্থার ফসল হিসেবে এরা দেখতে নারাজ, যেমনটি অখিল গুপ্তের কাজ আমাদের দেখায়।

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মত বেঁচে থাকার সর্বনিম্ন শর্তগুলোকেও নয়া-উদার অর্থনীতি প্রতিযোগিতার বাজারে নিয়ে আসে। এই অবস্থায় সব সময়ই বিপুল মানুষ স্থায়ীভাবে ক্ষুধার্ত, নগ্ন ও রুগ্ন ও গৃহহীন থেকে যায়। এই ব্যবস্থা উৎপাদিত তাদের অকাল অস্বাভাবিক গণমৃত্যুর মিছিলকে স্বাভাবিক মৃত্যুর সার্টিফিকেট দেয়া হয়। এই ব্যবস্থার স্রষ্ঠা ও পালক হিসেবে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা অথবা দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যে রয়েছে তাদের টকশো স্টার, টিভি চ্যানেল, হলিউড, বলিউড, ঢালিউড, কবি, সাহিত্যিক, অর্থনীতিবিদ এবং মোটিভেশনাল স্পিকারের দল। তাই মহামারি কেবল হাত ধোয়া, ঘরে থাকা, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, স্টিমুলাস প্যাকেজ ও ত্রাণ বিতরণের বিষয়। কিন্তু সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়া চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্যগুদামে মজুতদারি, সাপ্লাই চেইন ভেঙ্গে কৃষকের টমেটো, খামারির মুরগি কিম্বা দুধ পঁচে যাওয়ার ক্ষয়-ক্ষতি, করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক, মানসিক বিপর্যয় রাষ্ট্রের গায়ে আঘাত করে না। ক্ষমতায় আসীন কতিপয়তন্ত্র কোন তাপ-অনুতাপ, মর্মপীড়া বা দায়-দায়িত্ব ছাড়াই সামাজিক সুখ্যাতি ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করে। রাষ্ট্রীয় তহবিল লোপাট করে মসজিদে অনুদান করে ভারমুক্ত হয়ে যায়। পাবলিক ফান্ড লোপাটকারীদের সংঘ, ধর্মগুরু, পত্র-পত্রিকা, সাহিত্যিক, মোটিভেশন স্পিকার, থেরাপিস্টের দল এই নীরব গণহত্যাকে জায়েজ করবার মতাদর্শ উৎপাদন করে।

মহামারি এই গোটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেবে না, কিন্তু ভেঙ্গে পড়া ব্যবস্থায় দারিদ্র্য এবং বৈষম্যকে একেবারে নাঙ্গা করে দিয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার বেষ্টনীবিহীন, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার সুরক্ষাবিহীন এই বিপুল সংখ্যক নাগরিকদের উপর ভিআইপিতন্ত্রের সহিংসতা এখন খুল্লাম খোলা। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র সকল নাগরিকদের জীবনের সমান সুরক্ষার দায়িত্ব খোলাখুলিভাবে অস্বীকার করে ভিআইপিদের জীবন রক্ষাকে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে। সবচেয়ে দরিদ্র জেলায় সবচেয়ে কম ত্রাণ দিয়ে সবচেয়ে অবস্থাপন্ন এলাকায় বেশি ত্রাণ বিতরণ করেছে। রাষ্ট্রের এই ধরনের নীতি ও অব্যবস্থাপনায় মধ্যে সুরক্ষাহীন দরিদ্রদের অধিকতর সংক্রমণ ও মৃত্যুর মুখোমুখি করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রোগপ্রতিরোধের জৈব ক্ষমতার উপর। তাই এটা এতক্ষণে পরিষ্কার যে, করোনা সংক্রমণে ধনী-দরিদ্র, ক্ষমতাবান-প্রান্তিক-একইভাবে মৃত্যুর মুখে পড়ছে না। দরিদ্র ও প্রান্তিক গোষ্ঠী প্রত্যক্ষভাবে গণমৃত্যুর মুখোমুখি। এই অবহেলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধমূক নয়? এইসব মৃত্যু কি স্বাভাবিক, প্রাকৃতিক, নাকি দারিদ্র্যের পুনরুৎপাদনমূলক রাষ্ট্রীয় পলিসি মানুষকে এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে? করোনার স্বাস্থ্য মহাবিপর্যয়ে জুডিথ বাটলার এই অপরাধমূলক অবহেলাকেই পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করেছেন সিধা সহিংসতা হিসেবে (Wade, 2020) ।

রাষ্ট্র বনাম সমাজ, সম্প্রদায় ও সংঘ  

বাংলাদেশে মহামারি সংক্রান্ত প্রায় সব আলোচনার ভরকেন্দ্র হল জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি যেখানে বিশ্বব্যবস্থা এবং ন্যূনতম রাষ্ট্রের নিচে যাওয়া যাচ্ছে না। জালের মত বিছিয়ে থাকা এনজিওগুলো রাষ্ট্রেরই সহায়ক সংগঠন। গ্রাম পর্যায়ে তৃণমূলে উদার অর্থনীতি ও বাজারকে নিয়ে যাওয়ার কাজে নিয়োজিত এনজিওগুলো গ্রাম সমাজের নিজস্ব সমাজিক সংগঠনগুলোকে অনেকটাই গিলে ফেলছে। সামাজিক সাংস্কৃতিক গ্রাম-মহল্লাভিত্তিক উদ্যোগগুলো গত কয়েক দশকে এনজিওগুলোর ভেতরে হজম হয়ে গেছে। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার যে, এই কোভিড পরিস্থিতিতেও এনজিওগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোন নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে না। বরং, দেশব্যাপি স্বেচ্ছাসেবী ত্রাণসংগঠনগুলোর কার্যক্রমে সামাজিক শক্তিগুলোর একটা পুনরুত্থান ঘটতে দেখা যাচ্ছে। প্রণোদনা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর যে অবিকশিত অবকাঠামো তার স্তর স্তরে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় এর সুফল কতখানি দেখা যাবে, তা নিয়ে অনেক সন্দেহ আছে। এই অবস্থায় দেখা গেছে সমাজের ভেতর থেকে স্বতঃস্ফূর্ত  স্বেচ্ছাসেবার দলগুলোর বেড়ে ওঠা! স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের এই দলগুলো রাতদিন সক্রিয় থেকে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ত্রাণসেবা দরিদ্র ও দুর্গত মানুষদের পৌঁছানোর জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় ও আঞ্চলিক তরুণ যুব সংগঠনগুলো ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ এবং বিতরণের নানা উপায় ও কৌশল খুঁজে নিয়েছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা, এলাকার তরুণ সংগঠকেরা এতে সম্পৃক্ত। অনেক বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিও নানাভাবে ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু নাগরিকদের এই বিপুল মানবিক স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রমের কোন জাতীয় সমন্বয় নেই, নেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। এরা মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে শিখতে কাজ করে যাচ্ছে।

এদের ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ এবং বিতরণের অভিজ্ঞতার ভেতর আমরা তল থেকে আসা কিছু কণ্ঠস্বর, সামান্য কিছু মানুষজনকে দৃশ্যমান দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু নিম্নবর্গের নিজের কথা নিজে বলতে পারেনি,  তাদের কণ্ঠস্বর এখনও অশ্রুত। লক ডাউন চাপিয়ে দেয়া বা উঠিয়ে নেয়ার কৌশলে, হার্ড ইমিউনিটির নীতি গ্রহণের সময়, চলাচলে পাস আরোপের সময় গণতন্ত্রের কথা রাষ্ট্র বেমালুম ভুলে গেছে। কখন কি নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে অথবা বাতিল করা হচ্ছে, তা জানানোর, আলাপ- পরামর্শ করবার, মূর্খ জনগণের সম্মতির তোয়াক্কা করার কোন প্রয়োজন হয়নি। দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা আইন’ ২০১২– এ লব্ধ ক্ষমতা প্রয়োগে জনকল্যাণে ব্যবহারে জনমতের প্রতি সম্মান ও ন্যায্যতা প্রদর্শন আদৌ কোন বিবেচনা পায়নি।

আর্টওয়ার্ক: দ্য নিউ মুন-১
শিল্পী: ফারহানা ইয়াসমিন
সূত্র: ফেসবুক

দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যখাত, হাসপাতালগুলোর অবস্থা, সংক্রমণ ও মৃত্যুর তথ্যের গরমিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ, মিডিয়ার স্বাধীনতা ইত্যাদি মহাগুরুত্ববহ আলোচনায় বিশেষজ্ঞ ছাড়া আমজনতার কি বলার কিছু থাকতে পারে? চাপিয়ে দেয়া শাসনের চাপে বেঁচে থাকতে তাদের কি কোন কৌশল আছে? নৃবিজ্ঞানী হিসেবে আমার ভীষণ কৌতূহল যে, সমাজ বলে কি বাংলাদেশে কোন সংগঠন আদৌ আছে? সম্প্রদায় আছে?– যেমনটি বাংলাদেশের গ্রাম গবেষকরা দেখিয়েছে (উদাহরণস্বরূপ, ইয়ানেকা আরেন্স, ইয়োস ফান ব্যুরদেন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, পিটার বারটুচ্চি, ভেলাম ভান সেন্দেল, এরিক জানসেন, সারা সি হোয়াইট প্রমুখ )? সমাজ সংগঠনের কি কোন এজেন্সি আছে? তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে না কেন? রাষ্ট্রের সংস্কার, সংবিধানের ত্রুটি, রাষ্ট্রযন্ত্রের অকার্যকারিতা, চিকিৎসা ব্যবস্থার ভেঙ্গে পড়ার অভিঘাতে রাষ্ট্রের তলাকার লণ্ডভণ্ড জীবনগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে না কেন? তল থেকে আসা কোন আলোচনা শোনা যাচ্ছে কি? মহামারি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের সাথে সমাজ ও সম্প্রদায়ের কোন সংঘাত আছে কি, যেমনটা দীপেশ চক্রবর্তী কিম্বা ডেভিড আর্নল্ডরা ঔপনিবেশিককালের স্মল পক্স, কলেরা ও প্লেগের মহামারির ক্ষেত্রে দেখিয়েছেন যে,  মহামারির আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার হস্তক্ষেপের সাথে রাজনৈতিক শাসনের কাঠামোও প্রস্তুত করা হয়েছিল? নৃবিজ্ঞানী জহির আহমেদ (আহমেদ, ১৩ মে, ২০২০) ইংল্যান্ডের ইয়াম গ্রামে বুবনিক প্লেগের গ্রাম-সংগঠনের যে ঐতিহাসিক প্রস্তুতি, চার্চের ভূমিকা, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শক্তি ব্যবহারকে দেখিয়েছেন, তেমন বাংলাদেশের গ্রাম-সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় প্রকৃতি কেমন?

সমাজ ও সম্প্রদায়ের মহামারি মোকাবেলায় কোন স্থানীয়, ভেতর থেকে আসা কোন মেকানিজম আছে কিনা? কিম্বা আদৌ সম্প্রদায়ের কোন অস্তিত্বই আছে কিনা? পরিবার, গোষ্ঠী, গার্হস্থ্য দল, ভ্রাতৃসংঘ, জ্ঞাতিসম্পর্ক সম্প্রদায়, গ্রাম-সংগঠন, আন্তগ্রাম সহযোগিতার কোন এজেন্সি আছে কিনা, নাকি সমাজ পা থেকে মাথা পর্যন্ত শুধুই রাষ্ট্র? মহামারি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের ঘোষিত স্টিমুলাস প্যাকেজ ছাড়া আর কোন সামাজিক সাংস্কৃতিক কৌশল, মনস্তাত্ত্বিক হাতিয়ার, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শক্তির পথ থাকতে পারে কিনা? কোন সংঘের শরণ খোঁজা যায় কিনা? কোন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুঁজি ঘরে থাকা সম্ভব কিনা, যদি থাকে, কিভাবে আমরা এসব পুঁজি কাজে লাগাতে পারি?–  করোনার মহাদুর্যোগকালে এই অনুত্থাপিত প্রশ্নগুলো সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী হিসেবে আমি না ভেবে থাকতে পারি না।

২২ মে, ২০২০

তথ্য ও গ্রন্থনির্ঘণ্ট  

আহমেদ, জহির (১৩ মে ২০২০)ইংল্যান্ডে প্লেগ মোকাবেলা ও কোভিড-১৯ এর শিক্ষা,  https://www.somoynews.tv/pages/details/213481?fbclid=IwAR2d7JvyX6MyPJynT_NoiMO6AEbApbVbWBQgcbvZygQUCp-8sLcqTOI5-Sc , প্রবেশ, ২২ মে ২০২০

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ পরিস্থিতি, ( ৩ মে ২০২০) কোভিড – ১৯ উপসর্গে মৃত্যু সমূহ এবং বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

https://bdcoronainfo.wordpress.com/2020/05/03/research-findings-deaths-covid19-symptoms/ , প্রবেশ, ২২ মে ২০২০

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২, http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1103.html , প্রবেশ, ২২ মে, ২০২০

চক্রবর্তী, দীপেশ (১৯৯৮) শরীর, সমাজ, রাষ্ট্র: ঔপনিবেশিক ভারতে মহামারি ও জনসংস্কৃতি, নিম্নবর্গের ইতিহাস, গৌতম ভদ্র ও রনজিৎ গুহ সম্পাদিত, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা

Andrews, B. (1996). Colonizing the Body. State Medicine and Epidemic Disease in Nineteenth-Century India. By David Arnold University of California Press, 1993. – Public Health in British India. Anglo-Indian Preventive Medicine 1850–1914. By Mark Harrison Cambridge History of Medicine Series, Cambridge University Press, 1994. Modern Asian Studies, 30(3), 707-714. doi:10.1017/S0026749X0001670X

Wade, Francis (13 may, 2020) Judith Butler on Violence and Neglect amid a Health Crisis. https://www.thenation.com/article/culture/judith-butler-force-of-nonviolence-interview/, Accessed on, 22 May, 2020

Gupta, Akhil (2012). Bureaucracy, Structural Violence, and Poverty in India. Duke University Press, London

সায়েমা খাতুন

সায়েমা খাতুন

সায়েমা খাতুন নৃবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণা করছেন ১৯৯৯ সাল থেকে। বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এর আগে শিক্ষকতা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গবেষণার আগ্রহের বিষয়: দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, এথনিসিটি, আইডেন্টিটি, লিঙ্গীয় সম্পর্কের ইতিহাস, সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন, দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ; স্থানিক ও বৈশ্বিক ইসলাম।
যোগাযোগ: [email protected]

সায়েমা খাতুন

সায়েমা খাতুন